শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজদীপ রায় সবাইকে টেক্কা দিয়ে বিজেপি মনোনয়ন পেয়ে গেলেও জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পথে তিনি বিস্তর বাধার মুখোমুখি। জমজমাট নির্বাচনী ময়দানে একের পর এক অভিযোগে ক্ষত -বিক্ষত হতে হচ্ছে রাজদীপ রায়কে।এক দিকে, সাংসদ থাকাকালীন তাঁর চরম ব্যর্থতার কথা যেমন উঠে আসছে ; তেমনি চিকিৎসক হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বহু প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে ।এমন কথা অহরহ শোনা যায় যে, রাজনৈতিক জগতে বিচরণ করেও তিনি কখনও আমজনতার চিকিৎসক হয়ে উঠতে পারেননি।তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কখনও ভরসার জায়গাটুকু পাননি,এমন কথা বলতে দেখা যায় অনেককেই।এমনকী, তাঁর বিরুদ্ধে ‘মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’-দের চরম ক্ষোভের কথা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে।

এ বার মনোনয়ন প্রদানের আগের দিন আর্থিক লেনদেন নিয়ে রাজদীপ রায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন ‘ইভেন্ট অ্যাসোসিয়েশন,কাছাড় ‘-এর কর্মকর্তারা।এ দিকে, শিলচর তথা এই অঞ্চলে একের পর এক ভুয়ো চিকিৎসক নিয়ে পরিস্থিতি যখন সরগরম হয় ; তখন দেখা যায় ,’শিবসুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রম অ্যান্ড অ্যান্টি নেটাল ক্লিনিক’-এ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে রয়েছেন ভুয়ো চিকিৎসক পুলক মালাকার।এটা সকলের কাছে সুবিদিত যে, ‘অর্থোপেডিক সার্জন’রাজদীপ রায় শিবসুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রমের হর্তাকর্তা।রাজদীপ রায়ের প্রশ্রয়পুষ্ঠ না হলে ভুয়ো চিকিৎসক পুলক মালাকারের পক্ষে অসংখ্য মহিলার ভ্রান্ত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের নামে সর্বনাশ ডেকে আনা সম্ভব ছিল না।শাসক দলে আছেন বলেই রাজদীপ রায়ের গায়ে আঁচড় পড়েনি,মানুষের মুখে শোনা যায় এমন কথাও।

অনেকটা পিতা বিমলাংশু রায়ের পদাংক অনুসরণ করে শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রে মনোনয়ন পেয়ে গেলেন রাজদীপ রায়।১৯৯৬-য়ের নির্বাচনে শিলচর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ সেন – এর পরিবর্তে রাজদীপ রায়ের পিতা বিমলাংশু রায় দলীয় মনোনয়ন লাভ ‌করেছিলেন।সমরেন্দ্রনাথ সেনও ছিলেন সুপরিচিত আইনজীবী।১৯৯১-এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না বিমলাংশু রায়।রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তিন সন্তানের পড়াশোনার বিষয়টিতেই তিনি তখন অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন ।কিন্তু,১৯৯৬-য়ের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি।তখন বিজেপি মণ্ডল কমিটি প্রদত্ত নামের তালিকার সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রার্থী মনোনয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হতো।মণ্ডল থেকে দু-তিন জনের নাম পাঠানো হলে জেলা স্তরে সেটা অপরিবর্তিত থেকে যেত ।রাজ্য কমিটিতে এক জনের নাম চূড়ান্ত করা হলে তাতে সিলমোহর পড়তো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের । আর, মণ্ডল কমিটি থেকে কোনও কারণে শুধু এক জনের নাম পাঠানো হলে তাঁর মনোনয়ন প্রাপ্তি একেবারে নিশ্চিত হয়ে যেত।১৯৯৬-য়ে প্রার্থী বাছাই পর্বে বিমলাংশু রায় গোঁ ধরেছিলেন, শিলচরের মণ্ডল কমিটি থেকে শুধু তা‌ঁর নামই সুপারিশ করতে হবে। বেশ একটা টানাপোড়েনের পর সমরেন্দ্রনাথ সেন , যিনি ওই সময়কার বিধায়ক ছিলেন; সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁর নাম বাদ দিয়েই মণ্ডল কমিটি থেকে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। অথচ , অত্যন্ত সৎ,নীতিনিষ্ঠ হিসেবে সমরেন্দ্রনাথ সেনের ‌সর্বত্র যেমন খ্যাতি ছিল, তেমনি বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় দায়িত্ব পালনেও সফল ছিলেন তিনি ।অথচ, কোনও কারণ ছাড়াই দল তাঁকে রাজনৈতিক ‘নির্বাসনে’পাঠিয়ে দিয়েছিল।পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ,শিলচরে দলীয় ওই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বরেণ্য বিজেপি নেতা কবীন্দ্র পুরকায়স্থও শেষ পর্যন্ত ছাড়পত্র দিয়েছিলেন বিমলাংশু রায়কেই।

এ বার শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীর পরিবর্তে অনায়াসে মনোনয়ন পেয়ে গেলেন রাজদীপ রায়।অন্যান্য তাবড় মনোনয়ন-প্রত্যাশীও কুপোকাৎ হলেন তাঁর কাছে।রাজদীপেই ভরসা রাখলেন দলের নিয়ন্ত্রকরা।

(ক্রমশ )

——————-

শংকর দে

সম্পাদক

Newstews বাংলাক্রম Live

————————

Shankar Dey

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *