শংকর দে
সম্পাদক
Newstews বাংলাক্রম Live
————————–
কাছাড় জেলার কালাইনে ‘সত্যরঞ্জন কলেজ ‘-এ অধ্যক্ষ পদে নিযুক্তিকে কেন্দ্র করে শাসক বিজেপির কোনও কোনও নেতার ভূমিকা বেশ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।অধ্যক্ষ পদে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল গত চার জুন।এই পদে নিযুক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা অধিকর্তার অনুমোদনের পর।সাক্ষাৎকার গ্রহণের দশ দিন হয়ে গিয়েছে ।যখন নিযুক্তি প্রক্রিয়া চলছে ,তখন শাসক বিজেপির কোনও কোনও নেতা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য নামের আবেদনকারীকে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছেন !
সাম্প্রতিক কালে এসআর কলেজ নানা বিতর্কে সংবাদ শিরোনামে এসে যাওয়ার পর গত চার জুন শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এস আর কলেজের অধ্যক্ষ পদে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য যাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জয়িতা সেন, সত্যজিৎ দাস, মিথিলেশ চক্রবর্তী, আব্দুল হান্নান, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য।সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হয় চার জুন সন্ধে ছয়টা নাগাদ। আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা যায়,এর ঘন্টা কয়েক পর বিজেপির কোনও কোনও পদাধিকারী সামাজিক মাধ্যমে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য এস আর কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্তি পেয়ে গিয়েছেন বলে উল্লাস ব্যক্ত করেন।চার জুন রাত এগারোটা নাগাদ কালাইন মণ্ডল বিজেপি সভাপতি নিত্যগোপাল দাস প্রদত্ত ফেসবুক পোস্ট -এ উল্লেখ করা হয়েছে ,”সত্যরঞ্জন কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ শ্রী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য স্যারকে নতুন দায়িত্ব ভার গ্ৰহণ করার জন্য জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। স্যারের আগামী দিনগুলো সাফল্যমন্ডিত হোক ।”এর পর লেখা রয়েছে,”নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্ৰহণ করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ।এই নিয়োগে শিক্ষক -শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমগ্ৰ এলাকার শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।” শুধু , বিজেপির পদাধিকারী নিত্যগোপাল দাস নন; বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ থেকে শুরু করে শাসক দলের কাউকে কাউকে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্তি হয়ে গিয়েছে , সামাজিক মাধ্যমে এ কথা উল্লেখ করে বিশেষ উল্লাস , উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করতে দেখা যায়।আর এ নিয়েই ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।এ ধরনের শৈক্ষিক নিযুক্তি প্রক্রিয়া যখন চলছে , তখন ব্যক্তি- বিশেষের হয়ে শাসক দলের কেউ কেউ যে ভাবে কাণ্ডজ্ঞানহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, সেটা শিক্ষা বিভাগ তথা যে কোনও নিযুক্তির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং বিধি লংঘনের নগ্ন নজির ছাড়া আর কিছুই নয়।এর মধ্য দিয়ে এসআর কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে শাসক দলের কোনও কোনও নেতা মাঠে নেমেছেন, সচেতন মহলের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী , অধ্যক্ষ পদে সাক্ষাৎকার গ্ৰহণের ভিত্তিতে তা অনুমোদনের জন্য রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরে অধিকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয় রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের বিবেচনাধীন।এই পরিস্থিতিতে অন্যতম আবেদনকারী করিমগঞ্জ কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের হয়ে যে ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হচ্ছে , তা কার্যত রাজনৈতিক প্রচারের মতো হয়ে যাচ্ছে ; চর্চিত হচ্ছে এ ধরনের কথাও। অন্য আবেদনকারীরাও বিভিন্ন কলেজে সমাজতত্ত্ব, অংক , ইংরেজি ,বাংলা ; বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক।এই অবস্থায় অধ্যক্ষ পদের জন্য আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাৎকারের একেবারে সঙ্গে সঙ্গে কোনও কোনও বিজেপি নেতা সামাজিক মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে কী ভাবে নিযুক্তি দিয়ে দেন,এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেরই অভিমত, সাক্ষাৎকার পর্ব নেহাতই লোকদেখানো। প্রকৃতপক্ষে সব কিছুই পূর্ব নির্ধারিত।সামগ্ৰিক পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে ,তখন এসআর কলেজে অধ্যক্ষ পদে সাক্ষাৎকারে অবতীর্ণ অন্য চার আবেদনকারী ভীষণ অসন্তুষ্ট , এমনটাও জানা গিয়েছে । এসআর কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে যে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে , এর ‘সিলেকশন কমিটি ‘ চেয়ারম্যান আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য , অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ। কমিটিতে রয়েছেন বর্তমান ও প্রাক্তন সাত অধ্যাপক , অধ্যক্ষ।রয়েছেন এস আর কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা গুরুচরণ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নারায়ণ মজুমদার।সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টর পমি বড়ুয়া অত্যন্ত দক্ষ,নীতিনিষ্ঠ আধিকারিক হিসেবে সুপরিচিত।তাই সব দিক বিবেচনা করে এসআর কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিযুক্তিতে কোনও অনিয়মকে তিনি গ্রাহ্য করবেন না, অনেকে এমনটা মনে করছেন।নিযুক্তি প্রক্রিয়া যাতে প্রহসনে পরিণত না হয়,এর নিশ্চয়তা চান শৈক্ষিক মহল।অনেকেই ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ।
এমনিতেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এস আর কলেজ।গত আঠাশ ফেব্রুয়ারি এস আর কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত গোস্বামী অবসর নেন। নিয়ম অনুসারে,বিজিত গোস্বামী অবসর গ্ৰহণের তিন মাস আগেই নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার কথা । কিন্তু, সেটা হয়নি। বিজিত গোস্বামীর পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন কলেজেরই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মিহির সিংহ ।নানা ঘটনা প্রবাহে উত্তাপ ছড়ায় এই শিক্ষাঙ্গনে।এখন আবার অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে শৈক্ষিক মহলে নানা গভীর প্রশ্নচিহ্ন। দেখা যাক, জল কত দূর গড়ায়?
(ছবি সৌজন্য : ফেসবুক)
