মনে হচ্ছে , রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষার একটি বাতাবরণ ইতিমধ্যে অসমে তৈরি হয়ে গিয়েছে। খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যু উদঘাটনের দাবিতে উত্তাপ বাড়ছে ক্রমশ। এ নিয়ে যথেষ্ট তৎপরতা দেখা যাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ সহ বিরোধীদের। অন্য দিকে, হিমন্তবিশ্ব শর্মা পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন কাটালেন, এ নিয়ে বিস্তর চর্চা হচ্ছে। ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’, মূলত, একা কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে সব কিছু সামলেছেন তিনি। পঁচিশ বছরের পরিষদীয় রাজনীতিতে হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্ববিরোধিতাও কম নয়।বিশ্লেষণে “নিউজটিউজ বাংলাক্রম লাইভ ” সম্পাদক শংকর দে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা কি কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছেন? বিরোধী দলগুলোর নেতৃবৃন্দের মুখে ইদানিং কালে যে কথা শোনা যাচ্ছে ,তা হলো; ছাব্বিশে রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হবে বিজেপি। আবার আরেকটি মহলের ভবিষ্যদ্বাণী হলো, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় বসবে, তবে ফের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না হিমন্তবিশ্ব শর্মা।আর এ সব কথা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে হিমন্তবিশ্ব শর্মা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁর নেতৃত্বেই রাজ্যে বিজেপি খুব সহজে ফের ক্ষমতাসীন হবে। অসমে বিধানসভা নির্বাচনের মাস ছয়েক বাকি।দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসবে, ততই রাজনৈতিক চর্চা, জল্পনাকল্পনা , ভবিষ্যদ্বাণীর তীব্রতা এগিয়ে যাবে আরও দ্রুতগতিতে। জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যুর পর রাজ্যের স্থানে স্থানে বিভিন্ন স্তরের মানুষকে পথে নেমে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেখা যায়। কিন্তু,জুবিন গর্গের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকে শুরু করে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামগ্রিক বিষয়টি হিমন্তবিশ্ব শর্মা আগাগোড়া নিজেই তদারকি করেন। পরিস্থিতি যাতে কোনও অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, এর জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। এর পরও থামছে না নানা বিতর্ক। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাকপর্বে বিষয়টিকে জিইয়ে রাখতে তৎপর বিরোধীরা। অবশ্য, হিমন্তবিশ্ব শর্মা নিজেই বিতর্ক উস্কে দিয়ে বলেছিলেন যে, জুবিনের মৃত্যুর যদি ন্যায়বিচার না হয়, তা’হলে মানুষ তাঁকে ছাব্বিশে ভোট দেবেন কেন? এখন তো বলা যায়, সকল দলই জুবিনময় রাজনীতিতে শাণ দিয়ে চলেছেন।
তা’হলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার ভবিষ্যৎ রাজনীতি কি কোনও অনিশ্চয়তায় আবর্তিত? এটা মনে করার কি কোনও কারণ রয়েছে? যে কোনও নির্বাচনের মাস ছয়েক আগে থেকেই একটা ডামাডোল শুরু হয়ে যায়।জনমানসকে তোলপাড় করে দিতে পারে ,সমকালীন এমন ইস্যুগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। সামাজিক মাধ্যম এখন প্রচার বা অপপ্রচারের একটা বড় ক্ষেত্র। মনে হচ্ছে ,রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষার একটি বাতাবরণ ইতিমধ্যে অসমে তৈরি হয়ে গিয়েছে। হিমন্তবিশ্ব শর্মা পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন কাটালেন, এ নিয়ে বিশ্লেষণ করলে তাঁর বিভিন্ন স্ববিরোধিতার কথা অবশ্যই উঠে আসবে। হিমন্তবিশ্ব শর্মা অনুরাগীদের একটা নিজস্ব বলয় রয়েছে ,যেখানে বিভিন্ন মতাদর্শের লোক বিদ্যমান।দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে হিমন্তবিশ্ব সঙ্গী এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। আর অনেকে রাজনৈতিক দল নয়, নিছক তাঁর সমর্থক হিসেবে থেকে গিয়েছেন। কিন্তু ,এই পাঁচ বছরে হিমন্তবিশ্ব শর্মার মধ্যে তাঁরা বিস্তর পরিবর্তন ঘটতে দেখেছেন। ২০০১ থেকেই হিমন্তবিশ্ব শর্মা কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত যুক্তি- তর্ক দিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন। ওই দশ বছরে দেখা গিয়েছিল, বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রে সাহসী, জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে রাজ্যের উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১; অগপ শাসনকালে অসমের যে দুরবস্থা হয়েছিল, সেটা থেকে উত্তরণে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর বিশ্বস্ত পার্ষদ হিসেবে তিনি যথেষ্ট গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিভিন্ন জাতি ,জনগোষ্ঠীর সংহতির প্রতীকও হয়ে উঠেছিলেন তিনি।কিন্তু,২০১১ থেকে তরুণ গগৈর সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের পর তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পাল্টে যায়।প্রথমে ভেবেছিলেন, নিজেই আঞ্চলিক দল গড়বেন; যদিও তা হয়নি।রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর হিমন্তবিশ্ব শর্মার রাজনৈতিক দর্শন একেবারে পাল্টে যায়।বলা যায় ,একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ‘কর্মসূচি’ রূপায়ণে বিশেষভাবে সচেষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর অসমীয়া জাতীয়তাবাদ এবং আরএসএস-এর মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন তিনি। এতে বাঙালি হিন্দুরা কিন্তু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না। ‘বহিরাগত ‘
মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে’যুঝ ‘চালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিমন্তবিশ্ব শর্মা সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সর্বানন্দ সনোয়ালের সময়ে স্বাভাবিকভাবেই দু’জনে মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হতো। ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’, এখন তাঁর নেতৃত্বে অসম পরিচালিত হচ্ছে এ ভাবেই।আর এর জন্য তাঁকে দুঃসাধ্য পরিশ্রম করতে হচ্ছে ।এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর খানিকটা সাযুজ্য রয়েছে।চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে কুড়ি ঘন্টাই দু’জনে সরকার চালাতে, রাজনীতিতে সময় অতিবাহিত করেন।সরকার ও দল পরিচালনায় পশ্চিমবঙ্গের সব কিছু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নখদর্পণে থাকলেও এবং’তাঁর কথাই শেষ কথা’ হলেও রাজ্যের সর্বত্র কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী’টিম’ রয়েছে।সরকার তথা দল পরিচালনায় অনেকেই স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।সরকার পরিচালনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন সাপেক্ষে মন্ত্রীদের নিজস্ব যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে।সরকারে এবং দলে অনেক নিষ্ঠাবান মুখপাত্র রয়েছেন, যাঁরা বিভিন্ন সংকট নিরসনে প্রাণপাত পরিশ্রম করেন।পক্ষান্তরে , হিমন্তবিশ্ব শর্মা অন্যের উপর ভরসা না করে নিজেই সব কিছু সামাল দিতে ময়দানে নেমে থাকেন।তাঁর কথাবার্তায় এখনও যুক্তিতর্ক প্রাধান্য পায়।কিন্তু, বহু ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা আগে তেমন ছিল না বললেই চলে।আর তা করতে গিয়ে অনেক সময় তিনি খেই হারিয়ে পেলেন, বহু অপ্রাসঙ্গিক কথা উঠে আসে, এমনটা মনে করেন বিভিন্ন সচেতন মহল। ভোটপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে হিমন্তবিশ্ব শর্মা ভরসা করছেন সেই আমজনতাকেই।তরুণ গগৈর শাসনকালে হিতাধিকারী ভিত্তিক প্রকল্পের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। হিতাধিকারী ভিতকে আরও সুদৃঢ় করতে হিমন্তবিশ্ব শর্মা একের পর এক এ ধরনের প্রকল্প ঘোষণা করে চলেছেন। অনেকে এটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।
অরুণোদয় সহ আরও বহু প্রকল্প থেকে প্রত্যাশার হাওয়ায় ভর করে ছাব্বিশে বিজেপির তরী ভিড়বে তীরে,এমনটা মনে করছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এ ছাড়া;হিন্দুত্ব, মোদি ভরসা তো রয়েছেই। বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের ফলেও সুবিধাজনক অবস্থানে বিজেপি।দলীয় সংগঠনেও আরও গতি আনার চেষ্টা হচ্ছে।তবে ,অসমে এই দশ বছরের শাসনকালে বিজেপিকে ঘিরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও কম নয়।শুধু তাই নয়,হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধেও দলের অন্দরে অসন্তোষের একটা চোরাস্রোত বহমান, এটা তিনি নিজেই ভালো করে জানেন।যথাযথ সময়-সুযোগ পেলে তাঁকেও বেকায়দায় ফেলার লোক দলে কম নেই। কী কেন্দ্রে ,কী রাজ্যে ; হিমন্তবিশ্ব বিরোধী ‘লবি’ সক্রিয়। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আগামী দিনে বিরোধীরা কি হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে কঠিন
প্রত্যাহ্বানের মুখে ফেলতে পারবেন? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় আসেনি।রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এখনও তেমনভাবে সংগঠিত হতে পারেনি।বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েএখনও গভীর সংশয়।গৌরব গগৈ কংগ্রেসকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে , এখন অবধি কোনও রণনীতি তৈরি করতে পারেননি তিনি।দলকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ক্ষিপ্রতা প্রয়োজন, তা দেখা যাচ্ছে না।তাঁকে মনে রাখতে হবে ,শুধু নেতিবাচক রাজনীতি করে অসমে বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়।অন্য দিকে ,’আহোমকেন্দ্রিক’ জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে হলে তিন গগৈকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ‘রাইজর’ দল প্রধান অখিল গগৈ জোট রাজনীতিতে কতটুকু নির্ভরযোগ্য ,এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ‘অসম জাতীয় পরিষদ’ কাণ্ডারী লুরিণজ্যোতি গগৈ অবশ্য জোট গড়ে তোলার পক্ষে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু ,আসন রফা করে বামপন্থী দলগুলো সহ সকল বিরোধীদের নিয়ে আঁতাত গড়ে তোলা এত সহজ নয়। একই সঙ্গে তৈরি করতে হবে ‘কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম’ বা ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি। বিরোধীদের একতা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার বাতাবরণ তৈরি না হলে জনগণের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া সম্ভব নয়। হিমন্তবিশ্ব শর্মা তথা বিজেপির কূটকৌশলের মোকাবিলা করতে হলে যোগ্য নেতৃত্বেরও প্রয়োজন।আগামী দিনে বিরোধীরা তা প্রমাণ করতে পারবেন কি?
অসমে একবিংশ শতাব্দীর এই পঁচিশ বছরের রাজনীতিতে হিমন্তবিশ্ব শর্মা নিজেকে এক সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।নব্বই – এর দশকে তাঁকে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরোতে হয়েছে। ১৯৯৬-য়ে জালুকবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রথম বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন।ওই সময়টা ভালো যায়নি হিমন্তবিশ্ব শর্মার। একটি মামলায় তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। কিন্তু ,২০০১ থেকে তাঁর যে জয়যাত্রা সূচিত হয়েছিল, আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।হিমন্তবিশ্ব শর্মার রাজনীতিকে কয়েকটি অধ্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ ; হিতেশ্বর শইকিয়া মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ছাত্র সংগঠন ‘আসু’-র রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে হিমন্তবিশ্ব শর্মা কংগ্রেস রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন।ছিয়ানব্বইয়ে বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য না পাওয়ায় তিনি গৌহাটি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে পেশা শুরু করেছিলেন। ২০০১-য়ে নির্বাচনে জয়লাভের পর মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়।দশ বছর দু’জনের অত্যন্ত মধুর সম্পর্কের পর ২০১১ – য়ের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তাঁদের সম্পর্কে চিড় ধরে যায়। ২০১৩-য়ে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন হিমন্তবিশ্বা শর্মা।কিন্তু ,সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব তরুণ গগৈর পাশে থাকায় ২০১৪-য়ের একুশে জুলাই তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন।বলেছিলেন ; রাজনৈতিক, মানসিক, শারীরিক কোনও দিক থেকেই তিনি আর তরুণ গগৈর সঙ্গে কাজ করতে পারবেন না। এর পর ২০১৫-য়ের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেস বিধায়ক হিসেবে পদত্যাগ এবং বিজেপিতে যোগদান।এই রাজনৈতিক অধ্যায়ে ২০১৬-য়ের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি মিত্রজোট সরকারে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সর্বানন্দ সনোয়ালকে মেনে নিতে হয় তাঁকে।কিন্তু, ওই সরকারে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু কার্যত ছিল তাঁর হাতেই। প্রায় দু’দশক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী থাকার পর একুশে মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদের স্বপ্নপূরণ হলো হিমন্তবিশ্ব শর্মার।
পাঁচ বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারেন কি না, সে দিকেই দৃষ্টি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের।
[প্রতিবেদনের ছবি : হিমন্তবিশ্ব শর্মা ও গৌরব গগৈ।]
