প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা ,নভেম্বরের মধ্যে শিলচর পুরনিগম নির্বাচনের জোরালো দাবি ।দ্রুত জুবিন গর্গের মৃত্যুরহস্য উদঘাটিত না হলে ভবিষ্যতে জবাবদিহি করতে হবে সরকারকে।স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম লস্কর ও বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি অনন্তমোহন রায়।”নিউজটিউজ বাংলাক্রম লাইভ” রিপোর্ট।
‘বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন’-এর নবনির্বাচিত মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য হাগ্রামা মহিলারিকে অভিনন্দন বার্তা পাঠালো সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতি।সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি , প্রাক্তন অধ্যক্ষ , আইনজীবী নজরুল ইসলাম লস্কর ,বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি অনন্তমোহন রায় প্রমুখ স্বাক্ষরিত অভিনন্দন বার্তায় এই আশার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে যে, হাগ্রামা মহিলারির সবল নেতৃত্বে আগামী দিনে বডোল্যান্ডে শান্তির পরিবেশ বজায় থাকবে।জাতি – ধর্ম – ভাষা নির্বিশেষে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে চলার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন হাগ্রামা মহিলারি,তা পালন করা হবে সর্বাবস্থায়। হাগ্রামা মহিলারির আগেকার পনেরো বছরের কাজকর্মের নিরিখেই তাঁকে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে ফের ক্ষমতায় বসিয়েছেন জনগণ।ভবিষ্যতে হাগ্রামা মহিলারি সেখানকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেবেন।কারণ ,বিটিআর প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই হাগ্রামা মহিলারি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে যে ভাবে তৎপর হয়েছেন ,তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।বিটিআর থেকে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্য গঠনে হাগ্রামা মহিলারি আরও সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন , এই আশা প্রকাশ করা হয়েছে।কারণ , বিটিআর প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই হাগ্রামা মহিলারি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণবরাক উপত্যকার সঙ্গে বডোল্যান্ড-এর গভীর সম্পর্কের কথা সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।বলা হয়েছে , শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন ‘বডোফা’ উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্ম। এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিলচরে,মঙ্গলবার সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি,শিক্ষাবিদ নজরুল ইসলাম লস্কর জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড়োভূমিতে যে লাগাতার আন্দোলন হয়েছিল , এর সুফল পাচ্ছেন সেখানকার জনগণ।হাগ্রামা মহিলারি এখন অনেক বেশি পরিণত।এ বার তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে মানুষ উপকৃত হবেন ,এটাই কাম্য।তিনি পরিতাপের সঙ্গে বলেন, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে মিজোরাম,মেঘালয়কে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সময় বরাক উপত্যকাও এই তালিকায় ছিল।তখনকার অবিভক্ত কাছাড়ে রাজ্য গঠন ছিল নিশ্চিত। কিন্তু,কিছু নেতার চরম অদূরদর্শিতার জন্যই এই অঞ্চলের জনগণ এখনও দুর্দশাগ্রস্ত।অস্তিত্ব ও পরিচয় সংকটে ভুগছেন মানুষ।অথচ,১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বিশ্বকাঁপানো ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলন ,একাদশ শহিদের আত্মত্যাগ সারা ভারতকে আলোড়িত করেছিল।আর এর ফলেই এক সময় বরাকে রাজ্য গঠনে গুরুত্ব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।কিন্তু তখন সেটা হয়নি।এর পরও ১৯৭২, ১৯৮৬-তে রক্ত ঝরেছে এখানকার মাটিতে।ভাষা শহিদ হয়েছেন আরও তিন বীর সন্তান।তথাপি সমস্যা ,সংকট রয়ে গেছে সেই তিমিরেই।এই অবস্থায় সব কিছুই নতুন করে ভাবতে হবে।বরাক উপত্যকায় নতুন রাজ্য গঠনের দাবি কোনও রকম বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাভাবনা নয়।ভাষা তো বটেই ; ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক , আর্থ-সামাজিক, সকল কারণেই দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে এখানে রাজ্য গঠন প্রয়োজন ছিল।তা না হওয়ার ফলে ক্ষতি সকলেরই।দেশের কোনও কোনও স্থানে দাবি আন্দোলনের ফলে যেমন রাজ্য গঠিত হয়েছে , তেমনি সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে কোনও কোনও অঞ্চলকে রাজ্য করা হয়েছে।ভারতের স্বাধীনতা সন্ধিক্ষণেই অবিভক্ত কাছাড়কে নিয়ে রাজ্য গঠনের দাবি তীব্রতর হয়েছিল।দীর্ঘকাল পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে এখন এই গণদাবি মেনে নেওয়া উচিত।
এ দিকে , মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের মধ্যে শিলচর পুর নিগম নির্বাচন আয়োজনের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতির তরফে।সমিতির বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি অনন্তমোহন রায় বলেন ,যে কোনও মূল্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা উচিত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।পাঁচ বছর ধরে যে ভাবে শিলচরের নাগরিক জীবনকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে , তা অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক ও বিধি বহির্ভূত।কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছায় এ ভাবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া যায় না। বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তা গড়িয়ে গেলে পুর নিগম নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে অন্তত বছর দেড়েক লেগে যাবে। তাই ,শিলচরের নাগরিকদের এই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া কোনও অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বলেন , সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতি পুর নিগম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত।ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে ,জানান তিনি ।
খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যুর ন্যায়বিচার চেয়ে তাঁর পত্নী গরিমা গর্গ দশ দিনের যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম লস্কর বলেন , সরকারের এই ব্যাপারে সদিচ্ছা থাকা উচিত।নতুবা , ভবিষ্যতে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এই রহস্যমৃত্যু নিয়ে আর টালবাহানা না করার জন্য তিনি দাবি জানান।
[প্রতিবেদনের ছবি : হাগ্রামা মহিলারি ,নজরুল ইসলাম লস্কর ,অনন্তমোহন রায়।]
