নিউজটিউজ বাংলাক্রম রিপোর্ট।
কাছাড়ের কিছু গ্রাম ডিমা হাসাও জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এর তীব্র বিরোধিতা করেছে সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্টতই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কাছাড় তথা বরাক উপত্যকার ভূখণ্ডকে সংকুচিত করার কোনও অপপ্রয়াস মেনে নেওয়া হবে না। সোমবার, শিলচরে সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শিক্ষাবিদ, আইনজীবী নজরুল ইসলাম লস্কর সাংবাদিকদের বলেন, বরাক উপত্যকাকে সব দিক থেকে দুর্বল করার একটা পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। ৯৬টি গ্রাম ডিমা হাসাও-র অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন এক সময়কার জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান দিলীপ নুনিসা।কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে বরাক থেকে নির্বাচিত বিধায়ক , সাংসদগণ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন।জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের কোনও দায়বদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।বরাক উপত্যকাকে যে এ ভাবে নানা দিক থেকে গুরুত্বহীন করা হচ্ছে, এর পরিণতি নিয়ে সাংসদ – বিধায়কদের কোনও প্রতিক্রিয়া কি নেই ? যদি তাঁরা বরাকের তিন জেলার ভৌগোলিক অবস্থান রক্ষা করা সহ অন্যান্য সমস্যা ,সংকট নিরসন করতে না পারেন ,তা’হলে অবশ্যই তাঁদের পদত্যাগ করে যোগ্য ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া উচিত।এ ভাবে পদ আঁকড়ে থাকার নৈতিক অধিকার নেই তাঁদের ।কারণ ,বরাক উপত্যকার ইতিহাসে তাঁরা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বিধায়ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন ।
প্রাক্তন অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লস্কর বলেন, মিজোরাম বরাকের তিন জেলার বহু স্থান জবরদখল করে রেখেছে। এখানকার বেশ কিছু এলাকা মেঘালয় রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করার ‘সমঝোতা ‘ আগেই হয়েছে। মণিপুরও কাছাড়ের বহু গ্রামকে তাদের বলে দাবি করে ।ত্রিপুরার উগ্র জাতীয়তাবাদীদেরও ‘শ্যেনদৃষ্টি’ রয়েছে বরাকের জমির দিকে। এ সব হচ্ছেটা কী ? এই প্রশ্ন তুলে নজরুল ইসলাম লস্কর আশংকা প্রকাশ করেছেন যে, এ ভাবে বরাকের জমি ভাগ – বাটোয়ারা করে অন্যদের প্রদান করার পর এখানকার বিধানসভা কেন্দ্র আরও কমানো হতে পারে।লোকসভা আসন আরও একটি বাড়ানোর দাবিকেও নস্যাৎ করা হতে পারে।নজরুল ইসলাম লস্কর আরও বলেন,বরাক উপত্যকায় বিভিন্ন জাতি, উপজাতি , আদিবাসী ও নানা ধর্মাবলম্বী, সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছেন। কখনও কখনও উস্কানি দিয়ে শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তাই তো বরাক উপত্যকা ‘শান্তির দ্বীপ’ নামে অভিহিত। এটাই বরাকের বৈশিষ্ট্য। তাঁর আক্ষেপ ,এই শান্তির জন্য যেখানে পুরস্কার প্রাপ্য; সেখানে তিরস্কার জুটছে। আর যেখানে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ, সেখানে প্রদান করা হচ্ছে ‘পিস বোনাস।’ যে সকল গ্রাম ডিমা হাসাও জেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে ,সেখানে ডিমাসা লোকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নন।সেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের বাস রয়েছে ।মিলেমিশে রয়েছেন সবাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিমা হাসাও জেলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে , কড়া ভাষায় এর বিরোধিতা করা হয়েছে। ডিমাসা উগ্রপন্থীদের তথাকথিত সংগঠনের একটাই লক্ষ্য; এখানকার এলাকাকে তাদের সঙ্গে যুক্ত করে, জনসংখ্যা বাড়িয়ে বিধানসভা আসন বাড়ানো এবং কার্বি আংলংকে বাদ দিয়ে লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস করা।
প্রান্তিকায়িত জাতি, জনগোষ্ঠীর অবশ্যই সমানাধিকার প্রাপ্য।এটা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত, এ কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম লস্কর বলেন, সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতি এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই দল বিভেদ – বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় ।আর এই লক্ষ্যেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বরাক উপত্যকার অন্তত চারটি কেন্দ্রে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রদান করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বরাক উপত্যকাকে যাতে কোনও ভাবেই বিপন্ন করা না হয়, এ নিয়ে জাতি-ধর্ম – বর্ণ তথা দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায়-অবিচার – সাম্প্রদায়িকতা বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান ।
সুবর্ণখণ্ড রাষ্ট্রীয় সমিতির কেন্দ্রীয় বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি অনন্তমোহন রায় বলেন, শিলচর পুর নিগম নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।এ ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে ।ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বরাক উপত্যকার তেরোটি আসনেই প্রার্থী দেবে দল, জানান তিনি। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রসঙ্গে, কৃষি ও শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন এল উমাকান্ত সিংহ, পার্থ বর্মন, গুরুচরণ গৌড়, অপূর্ব দত্ত, সুপ্রীতি দাস, নন্দন চৌধুরী, মঞ্জিল হোসেন লস্কর, সারিমুল হক লস্কর, সালেহ আহমেদ মজুমদার প্রমুখ।
